জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) হল এমন এক ধরনের শক্তির উৎস, যেটি লক্ষ লক্ষ বছর আগে মৃত উদ্ভিদ ও প্রাণীর অবশিষ্টাংশ থেকে তৈরি হয়েছে। পৃথিবীর অভ্যন্তরের চাপ ও তাপের প্রভাবে, এই জৈব পদার্থগুলো ধীরে ধীরে কয়লা, পেট্রোলিয়াম (তেল) এবং প্রাকৃতিক গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। এগুলো অ-নবায়নযোগ্য (Non-renewable), অর্থাৎ একবার ব্যবহার করলে পুনরায় দ্রুত তৈরি হয় না। বর্তমানে বিশ্বের শক্তির চাহিদার একটি বড় অংশ, এই জীবাশ্ম জ্বালানির উপর নির্ভরশীল।
জীবাশ্ম জ্বালানির (Fossil Fuel) প্রকারভেদ ও ব্যবহার
জীবাশ্ম জ্বালানির (Fossil Fuel) প্রধান তিনটি ধরন হল—কয়লা, পেট্রোলিয়াম (তেল) এবং প্রাকৃতিক গ্যাস। কয়লা প্রধানত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়, তেল পরিবহন ব্যবস্থায় (যেমন গাড়ি, বিমান) এবং প্রাকৃতিক গ্যাস রান্না, বিদ্যুৎ ও শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত করা হয়। প্রাকৃতিক গ্যাস তুলনামূলকভাবে কম দূষণ সৃষ্টি করে এবং আধুনিক অর্থনীতিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের উপর প্রভাব
জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) পোড়ানোর ফলে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড (CO₂) এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গত হয়, যা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের (Global warming) প্রধান কারণ। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প ও পরিবহনে এই জ্বালানির ব্যবহারে খুব বায়ু দূষণ বাড়ে এবং জলবায়ুর পরিবর্তনকে ত্বরান্বিত করে। তবে গবেষণা অনুযায়ী, জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নির্গত গ্যাসই বৈশ্বিক উষ্ণায়নের (Global warming) অন্যতম প্রধান কারণ।
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বড় মাপের আলোচনা চলছে। COP-28 সম্মেলনে জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossজ্বালানি ধীরে ধীরে কমানোর (phase-out) বিষয়টি খুব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে উঠে এসেছে। তবে অনেক তেল উৎপাদনকারী দেশ এই প্রক্রিয়াকে দুর্বল করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যাংক এখনও বিপুল পরিমাণ অর্থ জীবাশ্ম জ্বালানি (Fossil Fuel) প্রকল্পে বিনিয়োগ করছে, যা জলবায়ু লক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।